০৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবীনগরে এইচএসসির ফলে বৈপরীত্য, দুই প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। কোথাও শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য, আবার কোনো প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাসের সাফল্য। উপজেলার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৯৯৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭৭০ জন। তবে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। অন্যদিকে, আলিম উদ্দিন জোবেদা কলেজের সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুজন এবং বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সাতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু দুই প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান দুটিতে পাসের হার শূন্য শতাংশ।

অন্যদিকে, আলিম উদ্দিন জোবেদা কলেজ থেকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম) শাখায় ১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১০০ শতাংশ।

শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ১১টি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৭৮১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জন জিপিএ-৫সহ মোট ৬৫৮ জন কৃতকার্য হয়েছেন। এ বিভাগে পাসের হার ৩৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

সাধারণ কলেজগুলোর মধ্যে তুলনামূলক ভালো ফলাফল করেছে বিটঘর দানবীর মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য বিদ্যাপীঠ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১২১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনজন জিপিএ-৫সহ ৬৭ জন পাস করেছেন। এ প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৫৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এছাড়া নবীনগর সরকারি কলেজে পাসের হার ৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং নবীনগর মহিলা ডিগ্রি কলেজে পাসের হার ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় উপজেলার পাঁচটি মাদরাসা থেকে ১৭৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে চারজন জিপিএ-৫সহ মোট ৭৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ বিভাগে পাসের হার ৪২ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আলিম পরীক্ষায় মাদরাসাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে নারায়ণপুর ডিএস কামিল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৯ জন পাস করেছেন। এ মাদরাসার পাসের হার ৫৪ দশমিক ৭২ শতাংশ।

অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম) ধারায় উপজেলার দুটি কলেজ থেকে মোট ৪১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন জিপিএ-৫সহ ৩৬ জন কৃতকার্য হয়েছেন। এ বিভাগে পাসের হার ৮৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। এর মধ্যে আলিম উদ্দিন জোবেদা কলেজের ১১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়ে শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছেন।

ট্যাগ :
a>
লেখক সম্পর্কে তথ্য

Pial Riaz

জনপ্রিয়

আগামী দিনে এমপি আবদুল মান্নানের সঙ্গে নির্বাচন করার মতো কোনো প্রার্থী পাওয়া যাবে না-রাজীব ভূঁইয়া

নবীনগরে এইচএসসির ফলে বৈপরীত্য, দুই প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস

প্রকাশের সময় ০৯:৫৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। কোথাও শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য, আবার কোনো প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাসের সাফল্য। উপজেলার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৯৯৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭৭০ জন। তবে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। অন্যদিকে, আলিম উদ্দিন জোবেদা কলেজের সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুজন এবং বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সাতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু দুই প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান দুটিতে পাসের হার শূন্য শতাংশ।

অন্যদিকে, আলিম উদ্দিন জোবেদা কলেজ থেকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম) শাখায় ১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১০০ শতাংশ।

শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ১১টি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৭৮১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জন জিপিএ-৫সহ মোট ৬৫৮ জন কৃতকার্য হয়েছেন। এ বিভাগে পাসের হার ৩৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

সাধারণ কলেজগুলোর মধ্যে তুলনামূলক ভালো ফলাফল করেছে বিটঘর দানবীর মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য বিদ্যাপীঠ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১২১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনজন জিপিএ-৫সহ ৬৭ জন পাস করেছেন। এ প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৫৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এছাড়া নবীনগর সরকারি কলেজে পাসের হার ৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং নবীনগর মহিলা ডিগ্রি কলেজে পাসের হার ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় উপজেলার পাঁচটি মাদরাসা থেকে ১৭৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে চারজন জিপিএ-৫সহ মোট ৭৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ বিভাগে পাসের হার ৪২ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আলিম পরীক্ষায় মাদরাসাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে নারায়ণপুর ডিএস কামিল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৯ জন পাস করেছেন। এ মাদরাসার পাসের হার ৫৪ দশমিক ৭২ শতাংশ।

অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম) ধারায় উপজেলার দুটি কলেজ থেকে মোট ৪১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন জিপিএ-৫সহ ৩৬ জন কৃতকার্য হয়েছেন। এ বিভাগে পাসের হার ৮৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। এর মধ্যে আলিম উদ্দিন জোবেদা কলেজের ১১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়ে শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছেন।