ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চরলাপাং গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে দফায় দফায় গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণ, বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাত ১০টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এ সহিংসতায় নারীসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে হামলার আশঙ্কায় কয়েকটি পরিবার গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন চরলাপাং গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে ফুল মিয়া (৬০) এবং একই গ্রামের জুলাস মিয়ার স্ত্রী উম্মে হানি (২২)। আহতদের প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ গ্রামে একের পর এক গুলির শব্দ শোনা যায়। এর কিছুক্ষণ পর ককটেল বিস্ফোরণ শুরু হলে গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ চলে।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ও ঘরের মালামাল ভাঙচুর করে। একই সঙ্গে ঘরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেওয়া হয়। হামলায় গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর এবং নয়াহাটী বাজারের অন্তত ১০টি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, চরলাপাং গ্রামে একটি সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা অহিদ মিয়া ও সাবেক ইউপি সদস্য মুসলেম মিয়ার মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও সম্প্রতি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, কৃষকদের জমি চাষের কাজে ভাড়ায় ব্যবহারের জন্য মুসলেম মিয়া একটি ট্রাক্টর কিনে আনেন। পরে ট্রাক্টর ভাড়ার ব্যবসা এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, এরই জেরে অহিদ মিয়া ও তার ভাই উবায়দুল মিয়ার পক্ষের সঙ্গে মুসলেম মিয়ার পক্ষের লোকজনের উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। শনিবার রাতে বহিরাগত লোকজন এনে হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সহিংসতার পর থেকে চরলাপাং গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘর্ষ বা হামলার আশঙ্কায় কয়েকটি পরিবারের সদস্য গ্রাম ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ও অন্য নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন।
গুলিবর্ষণের ঘটনার বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, “তাদের রক্ত গরম, মারামারি করছে। পুলিশ মাঝেমধ্যে টহল দিচ্ছে। দুইটা গ্রুপই খারাপ।”
পিয়াল হাসান রিয়াজ,বার্তা বিভাগ। 












