০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: জেলা প্রশাসক

  • মো. জুয়েল রানা
  • প্রকাশের সময় ১১:৫৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৭ সময় ভিউ

মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ। তিনি বলেছেন, মাদক প্রতিরোধে শুধু সচেতনতা নয়, বাস্তব জীবনেও এর প্রতিফলন ঘটাতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ ডিগ্রি কলেজের অডিটোরিয়ামে ‘মাদক প্রতিরোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক চোরাচালান ও মাদকের সহজলভ্যতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মাদক কারবারিরা বিশেষ করে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের তরুণদের লক্ষ্য করে তাদের বিপথে নেওয়ার চেষ্টা করে। কৌতূহল কিংবা অসৎ সঙ্গের কারণে অনেক তরুণ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সন্তানদের আচরণগত পরিবর্তন ও বন্ধুবান্ধবের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন মাদকের সংস্পর্শে না আসে, সে জন্য শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সতর্ক ভূমিকা পালন করতে হবে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১০১টি ইউনিয়নে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনি সহায়তা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি মোজাম্মেল হক (মাসুম)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস এম রেজাউল কবির।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ শাহীন মিয়া, নবীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মামুন, শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম আর মুজিব এবং বিটঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম দস্তগীর।

এ ছাড়া কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য আশরাফ হোসেন আকছির, লিটন মেম্বার, নাজির মেম্বার, খলিল মেম্বার, মাওলানা ইদ্রিস মিয়া, শাহাদাত হোসেন শাহীন মাস্টার, মাহাবুব মাস্টার, এস এম রউফ ও মাহবুবুর রহমানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থেকে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার এবং নিজেদের যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক বাকির আহম্মেদ হামিম ও গোলাম কিবরিয়া।

ট্যাগ :
a>
লেখক সম্পর্কে তথ্য

Weekly Nabinagar

জনপ্রিয়

জাতীয় পর্যায়ে ১২টি পুরস্কারে উজ্জ্বল নবীনগরের হাফেজরা

তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: জেলা প্রশাসক

প্রকাশের সময় ১১:৫৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ। তিনি বলেছেন, মাদক প্রতিরোধে শুধু সচেতনতা নয়, বাস্তব জীবনেও এর প্রতিফলন ঘটাতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ ডিগ্রি কলেজের অডিটোরিয়ামে ‘মাদক প্রতিরোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক চোরাচালান ও মাদকের সহজলভ্যতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মাদক কারবারিরা বিশেষ করে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের তরুণদের লক্ষ্য করে তাদের বিপথে নেওয়ার চেষ্টা করে। কৌতূহল কিংবা অসৎ সঙ্গের কারণে অনেক তরুণ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সন্তানদের আচরণগত পরিবর্তন ও বন্ধুবান্ধবের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন মাদকের সংস্পর্শে না আসে, সে জন্য শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সতর্ক ভূমিকা পালন করতে হবে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১০১টি ইউনিয়নে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনি সহায়তা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি মোজাম্মেল হক (মাসুম)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস এম রেজাউল কবির।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ শাহীন মিয়া, নবীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মামুন, শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম আর মুজিব এবং বিটঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম দস্তগীর।

এ ছাড়া কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য আশরাফ হোসেন আকছির, লিটন মেম্বার, নাজির মেম্বার, খলিল মেম্বার, মাওলানা ইদ্রিস মিয়া, শাহাদাত হোসেন শাহীন মাস্টার, মাহাবুব মাস্টার, এস এম রউফ ও মাহবুবুর রহমানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থেকে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার এবং নিজেদের যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক বাকির আহম্মেদ হামিম ও গোলাম কিবরিয়া।