১০:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শবে বরাতে হালুয়া খাওয়ার রীতি কি ধর্মীয়? জানুন ইতিহাস

  • থিম বিক্রয়
  • প্রকাশের সময় ০৬:২০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৩৭ সময় ভিউ

শবে বরাত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র রাত। এ রাতে নফল নামাজ, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের আশায় ইবাদতে মগ্ন থাকেন অনেকে। তবে শবে বরাতের সঙ্গে ঘরোয়া আয়োজন ও মিষ্টি খাওয়ার বিশেষ রেওয়াজও জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে হালুয়া ও রুটি বিতরণকে অনেকেই এই রাতের অঙ্গ হিসেবে মানেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, শবে বরাতে হালুয়া খাওয়ার রীতি কি ইসলামিক বিধান অনুসারে বাধ্যতামূলক, নাকি এটি কেবল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রেওয়াজের অংশ? ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলিয়ে আমরা এই রীতির উৎস ও বিবর্তনের গল্প জানতে পারি।

গবেষকদের মতে, শবে বরাতে হালুয়া-রুটি খাওয়া বা বিতরণ করার বিষয়টি ইসলামের কোনো ফরজ, ওয়াজিব বা নির্ধারিত আমলের অংশ নয়। এটি মূলত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ফল। পবিত্র রাতের আনন্দ ভাগাভাগি করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর মানসিকতা থেকেই এই রেওয়াজ গড়ে উঠেছে।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, উপমহাদেশে হালুয়া দীর্ঘদিন ধরেই মিষ্টি খাবারের সহজ ও জনপ্রিয় প্রতীক। বাংলাদেশ অঞ্চলে শবে বরাত পালনের প্রচলন জোরালো হয় উনিশ শতকের শেষদিকে। সে সময় ঢাকার নবাব পরিবার এই রাতকে কেন্দ্র করে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করতেন। আলোকসজ্জা, দান-খয়রাত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ ছিল সেই আয়োজনের উল্লেখযোগ্য অংশ। তখন দোকাননির্ভর মিষ্টির প্রচলন না থাকায় ঘরে তৈরি সহজ মিষ্টি হিসেবে হালুয়াই হয়ে ওঠে প্রধান আয়োজন।

ইতিহাসবিদদের মতে, নবাবি আমলে শবে বরাতের আয়োজনের মধ্য দিয়ে একদিকে ধর্মীয় অনুশাসন, অন্যদিকে মুসলমানদের সামাজিক প্রভাব ও শাসনব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটত। পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলে শবে বরাত উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষিত হলে এ দিনের আয়োজন আরও বিস্তৃত হয়। ধীরে ধীরে হালুয়া শবে বরাতের খাবারের তালিকায় স্থায়ী স্থান করে নেয়।

এ ছাড়া হাদিসে পাওয়া যায়, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মিষ্টি খাবার পছন্দ করতেন। তার অনুসারীদের মধ্যেও মিষ্টির প্রতি স্বাভাবিক অনুরাগ লক্ষ্য করা যায়। ইতিহাসবিদদের ধারণা, এই ধর্মীয় অনুপ্রেরণাও শবে বরাতের ইবাদতের সঙ্গে মিষ্টান্ন, বিশেষ করে হালুয়া খাওয়ার প্রচলনকে জনপ্রিয় করে তুলতে ভূমিকা রেখেছে।

ট্যাগ :
a>
লেখক সম্পর্কে তথ্য

Weekly Nabinagar

জনপ্রিয়

হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা পাশে আছি: এমপি আব্দুল মান্নান

শবে বরাতে হালুয়া খাওয়ার রীতি কি ধর্মীয়? জানুন ইতিহাস

প্রকাশের সময় ০৬:২০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শবে বরাত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র রাত। এ রাতে নফল নামাজ, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের আশায় ইবাদতে মগ্ন থাকেন অনেকে। তবে শবে বরাতের সঙ্গে ঘরোয়া আয়োজন ও মিষ্টি খাওয়ার বিশেষ রেওয়াজও জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে হালুয়া ও রুটি বিতরণকে অনেকেই এই রাতের অঙ্গ হিসেবে মানেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, শবে বরাতে হালুয়া খাওয়ার রীতি কি ইসলামিক বিধান অনুসারে বাধ্যতামূলক, নাকি এটি কেবল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রেওয়াজের অংশ? ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলিয়ে আমরা এই রীতির উৎস ও বিবর্তনের গল্প জানতে পারি।

গবেষকদের মতে, শবে বরাতে হালুয়া-রুটি খাওয়া বা বিতরণ করার বিষয়টি ইসলামের কোনো ফরজ, ওয়াজিব বা নির্ধারিত আমলের অংশ নয়। এটি মূলত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ফল। পবিত্র রাতের আনন্দ ভাগাভাগি করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর মানসিকতা থেকেই এই রেওয়াজ গড়ে উঠেছে।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, উপমহাদেশে হালুয়া দীর্ঘদিন ধরেই মিষ্টি খাবারের সহজ ও জনপ্রিয় প্রতীক। বাংলাদেশ অঞ্চলে শবে বরাত পালনের প্রচলন জোরালো হয় উনিশ শতকের শেষদিকে। সে সময় ঢাকার নবাব পরিবার এই রাতকে কেন্দ্র করে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করতেন। আলোকসজ্জা, দান-খয়রাত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ ছিল সেই আয়োজনের উল্লেখযোগ্য অংশ। তখন দোকাননির্ভর মিষ্টির প্রচলন না থাকায় ঘরে তৈরি সহজ মিষ্টি হিসেবে হালুয়াই হয়ে ওঠে প্রধান আয়োজন।

ইতিহাসবিদদের মতে, নবাবি আমলে শবে বরাতের আয়োজনের মধ্য দিয়ে একদিকে ধর্মীয় অনুশাসন, অন্যদিকে মুসলমানদের সামাজিক প্রভাব ও শাসনব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটত। পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলে শবে বরাত উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষিত হলে এ দিনের আয়োজন আরও বিস্তৃত হয়। ধীরে ধীরে হালুয়া শবে বরাতের খাবারের তালিকায় স্থায়ী স্থান করে নেয়।

এ ছাড়া হাদিসে পাওয়া যায়, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মিষ্টি খাবার পছন্দ করতেন। তার অনুসারীদের মধ্যেও মিষ্টির প্রতি স্বাভাবিক অনুরাগ লক্ষ্য করা যায়। ইতিহাসবিদদের ধারণা, এই ধর্মীয় অনুপ্রেরণাও শবে বরাতের ইবাদতের সঙ্গে মিষ্টান্ন, বিশেষ করে হালুয়া খাওয়ার প্রচলনকে জনপ্রিয় করে তুলতে ভূমিকা রেখেছে।