০৩:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরীক্ষায় সেরা হয়ে হেলিকপ্টারে ঢাকা গেল নবীনগরের দুই শিক্ষার্থী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার দুই মেধাবী শিক্ষার্থী প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করে হেলিকপ্টারে ঢাকা ভ্রমণের বিশেষ সুযোগ পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ানো, ভালো ফলাফলে উৎসাহিত করা এবং নৈতিক চরিত্র গঠনে অনুপ্রাণিত করতে ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ নিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার পুনিয়াউট মোড়ে অবস্থিত হারামাইন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এমন ব্যতিক্রমী পুরস্কারে আনন্দিত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চার শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে দুজনই নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের আমতলী গ্রামের বাসিন্দা ইয়াছির আহমেদ ও জাহিদুল হাসান। তাদের একজনের বাবা আলাল হোসেন এবং অন্যজনের বাবা জাকির হোসেন।

মেধাবী দুই শিক্ষার্থীর হেলিকপ্টারে ঢাকা ভ্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। হেলিকপ্টারটি একনজর দেখতে এবং কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের ঘিরে আশপাশের এলাকা থেকে শত শত মানুষ সেখানে ছুটে আসেন। এ সময় আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, নূরানী, নাযেরা ও হিফজ বিভাগের প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী তিন শিক্ষার্থী এবং সারা বছর কোনো অন্যায় বা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ না থাকা একজন শিক্ষার্থীকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। পুরস্কার হিসেবে তাদের হেলিকপ্টারে ঢাকা ভ্রমণ এবং রাজধানীর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ বছর এ বিশেষ সুযোগ পাওয়া চার শিক্ষার্থী হলো—নবীনগরের আমতলী গ্রামের ইয়াছির আহমেদ ও জাহিদুল হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার উল্চাপাড়ার ছিয়াম আহমেদ এবং কুমিল্লার মুরাদনগরের আবু বক্কর ছিদ্দিক।

পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী ইয়াছির আহমেদের মা স্বপ্না আক্তার বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমার ছেলে পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে, আমি অনেক খুশি। আজ আমার ছেলে হেলিকপ্টারে চড়ে ঢাকা যাচ্ছে।”

ছিয়াম আহমেদের মা নার্গিস আক্তার বলেন, “আমার স্বপ্ন, আমার ছেলে একদিন কুরআনের হাফেজ হবে। সে পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে এবং আজ হেলিকপ্টারে ঢাকা যাচ্ছে। এ আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”

জাহিদুল হাসানের মা নূরবানু বেগম বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমার ছেলে আগেও প্রথম হয়েছিল, এবারও প্রথম হয়েছে। সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।”

হারামাইন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ ক্বারী শাহ্ আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং উত্তম চরিত্র গঠনে অনুপ্রাণিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেধা ও শৃঙ্খলার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও শৃঙ্খলাকে স্বীকৃতি দেওয়ার এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ অন্য শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে শিক্ষাজীবনে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ অর্জনের প্রতিও তারা আরও যত্নবান হবে।

ট্যাগ :
a>
লেখক সম্পর্কে তথ্য

Pial Riaz

জনপ্রিয়

পরীক্ষায় সেরা হয়ে হেলিকপ্টারে ঢাকা গেল নবীনগরের দুই শিক্ষার্থী

পরীক্ষায় সেরা হয়ে হেলিকপ্টারে ঢাকা গেল নবীনগরের দুই শিক্ষার্থী

প্রকাশের সময় ০২:২৬:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার দুই মেধাবী শিক্ষার্থী প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করে হেলিকপ্টারে ঢাকা ভ্রমণের বিশেষ সুযোগ পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ানো, ভালো ফলাফলে উৎসাহিত করা এবং নৈতিক চরিত্র গঠনে অনুপ্রাণিত করতে ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ নিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার পুনিয়াউট মোড়ে অবস্থিত হারামাইন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এমন ব্যতিক্রমী পুরস্কারে আনন্দিত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চার শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে দুজনই নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের আমতলী গ্রামের বাসিন্দা ইয়াছির আহমেদ ও জাহিদুল হাসান। তাদের একজনের বাবা আলাল হোসেন এবং অন্যজনের বাবা জাকির হোসেন।

মেধাবী দুই শিক্ষার্থীর হেলিকপ্টারে ঢাকা ভ্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। হেলিকপ্টারটি একনজর দেখতে এবং কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের ঘিরে আশপাশের এলাকা থেকে শত শত মানুষ সেখানে ছুটে আসেন। এ সময় আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, নূরানী, নাযেরা ও হিফজ বিভাগের প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী তিন শিক্ষার্থী এবং সারা বছর কোনো অন্যায় বা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ না থাকা একজন শিক্ষার্থীকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। পুরস্কার হিসেবে তাদের হেলিকপ্টারে ঢাকা ভ্রমণ এবং রাজধানীর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ বছর এ বিশেষ সুযোগ পাওয়া চার শিক্ষার্থী হলো—নবীনগরের আমতলী গ্রামের ইয়াছির আহমেদ ও জাহিদুল হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার উল্চাপাড়ার ছিয়াম আহমেদ এবং কুমিল্লার মুরাদনগরের আবু বক্কর ছিদ্দিক।

পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী ইয়াছির আহমেদের মা স্বপ্না আক্তার বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমার ছেলে পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে, আমি অনেক খুশি। আজ আমার ছেলে হেলিকপ্টারে চড়ে ঢাকা যাচ্ছে।”

ছিয়াম আহমেদের মা নার্গিস আক্তার বলেন, “আমার স্বপ্ন, আমার ছেলে একদিন কুরআনের হাফেজ হবে। সে পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে এবং আজ হেলিকপ্টারে ঢাকা যাচ্ছে। এ আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”

জাহিদুল হাসানের মা নূরবানু বেগম বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমার ছেলে আগেও প্রথম হয়েছিল, এবারও প্রথম হয়েছে। সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।”

হারামাইন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ ক্বারী শাহ্ আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং উত্তম চরিত্র গঠনে অনুপ্রাণিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেধা ও শৃঙ্খলার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও শৃঙ্খলাকে স্বীকৃতি দেওয়ার এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ অন্য শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে শিক্ষাজীবনে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ অর্জনের প্রতিও তারা আরও যত্নবান হবে।