০৫:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা পাশে আছি: এমপি আব্দুল মান্নান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেছেন, “নবীনগরে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচনা করতে চাই না। আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক, সবাই সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করব। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবেন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একটি শান্তিপূর্ণ নবীনগর গড়ে তুলবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার এবং সার্বিক সুবিধা-অসুবিধার বিষয়ে আমি সব সময় সজাগ রয়েছি। যেকোনো প্রয়োজনে আপনাদের জন্য আমার দরজা ২৪ ঘণ্টা খোলা।”

সোমবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্রীশ্রী কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি, হরিসভা ও লাউর ফতেহপুর মন্দির পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি আব্দুল মান্নান বলেন, নবীনগর উপজেলায় ১৩২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং তাঁদের খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। উপজেলার এই শীর্ষ নেতা বলেন, “আমি চাই, নবীনগরের প্রতিটি মানুষ নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে বসবাস করবেন। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ যেন ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো ধরনের হয়রানি, বৈষম্য বা সমস্যার শিকার না হন, সে বিষয়ে আমি সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকব। আপনাদের যেকোনো সমস্যা, প্রয়োজন কিংবা অভিযোগ সরাসরি আমাকে জানাবেন। আপনাদের পাশে থাকা এবং সমস্যার সমাধানে সহযোগিতা করা আমার দায়িত্ব।”

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে জনপ্রিয় এই সাংসদ বলেন, নির্বাচিত হওয়ার সাত মাসে নবীনগরে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি । এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সহাবস্থান ও ভ্রাতৃত্বের মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছেন। এ ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো ধরনের বিভেদ, বিদ্বেষ কিংবা সাম্প্রদায়িক মনোভাব যেন মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে এমপি আব্দুল মান্নান বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে আনন্দ, উৎসাহ ও নির্বিঘ্নে তাঁদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎসবের পরিবেশ সুন্দর রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দোয়া কামনা করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

মন্দির পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য মাসুদুল ইসলাম মাসুদ, জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসরাফ হোসেন রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক-২ দেলোয়ার হোসেন সোহেল, পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন, হাসিবুল হাদিস শাহিন, সাইফুল ইসলাম সোহেল, আসাদুজ্জামান দুলাল, সুক্কুর খান, আবুল কালাম আজাদ, মনজুরুল আলম মজনু, ইলিয়াস আলী, শ্রমিক দলের আহ্বায়ক জাবেদুল ইসলাম জাবেদ, অনন্ত হীরা প্রমুখ।

ট্যাগ :
a>
লেখক সম্পর্কে তথ্য

Pial Riaz

জনপ্রিয়

হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা পাশে আছি: এমপি আব্দুল মান্নান

হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা পাশে আছি: এমপি আব্দুল মান্নান

প্রকাশের সময় ০৪:২৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেছেন, “নবীনগরে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচনা করতে চাই না। আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক, সবাই সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করব। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবেন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একটি শান্তিপূর্ণ নবীনগর গড়ে তুলবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার এবং সার্বিক সুবিধা-অসুবিধার বিষয়ে আমি সব সময় সজাগ রয়েছি। যেকোনো প্রয়োজনে আপনাদের জন্য আমার দরজা ২৪ ঘণ্টা খোলা।”

সোমবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্রীশ্রী কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি, হরিসভা ও লাউর ফতেহপুর মন্দির পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি আব্দুল মান্নান বলেন, নবীনগর উপজেলায় ১৩২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং তাঁদের খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। উপজেলার এই শীর্ষ নেতা বলেন, “আমি চাই, নবীনগরের প্রতিটি মানুষ নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে বসবাস করবেন। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ যেন ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো ধরনের হয়রানি, বৈষম্য বা সমস্যার শিকার না হন, সে বিষয়ে আমি সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকব। আপনাদের যেকোনো সমস্যা, প্রয়োজন কিংবা অভিযোগ সরাসরি আমাকে জানাবেন। আপনাদের পাশে থাকা এবং সমস্যার সমাধানে সহযোগিতা করা আমার দায়িত্ব।”

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে জনপ্রিয় এই সাংসদ বলেন, নির্বাচিত হওয়ার সাত মাসে নবীনগরে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি । এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সহাবস্থান ও ভ্রাতৃত্বের মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছেন। এ ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো ধরনের বিভেদ, বিদ্বেষ কিংবা সাম্প্রদায়িক মনোভাব যেন মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে এমপি আব্দুল মান্নান বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে আনন্দ, উৎসাহ ও নির্বিঘ্নে তাঁদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎসবের পরিবেশ সুন্দর রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দোয়া কামনা করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

মন্দির পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য মাসুদুল ইসলাম মাসুদ, জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসরাফ হোসেন রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক-২ দেলোয়ার হোসেন সোহেল, পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন, হাসিবুল হাদিস শাহিন, সাইফুল ইসলাম সোহেল, আসাদুজ্জামান দুলাল, সুক্কুর খান, আবুল কালাম আজাদ, মনজুরুল আলম মজনু, ইলিয়াস আলী, শ্রমিক দলের আহ্বায়ক জাবেদুল ইসলাম জাবেদ, অনন্ত হীরা প্রমুখ।