১১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অগ্নিকাণ্ডের ৯ মাস পর বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাদের আসামি করে মামলা, নবীনগরে বিক্ষোভ

নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রায় ৯ মাস পর হঠাৎ করেই আদালতে মামলা। আর সেই মামলায় আসামি করা হয়েছে বিএনপির সাবেক ও বহিষ্কৃত একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতাকে। ঘটনাটি ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মামলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন দলটির একটি অংশের নেতাকর্মীরা। সোমবার সন্ধ্যায় পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশও করেছেন তাঁরা।

জানাযায়,২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর একইছড়া বাজারে বিএনপির একটি নির্বাচনী প্রচারণা কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দীর্ঘ সময় পর সোমবার (২ নভেম্বর) নবীনগরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন নাটঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু হানিফ মোল্লা।

মামলায় জেলা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক ও বহিষ্কৃত নেতাসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও আনুমানিক শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার নামীয় আসামিরা হলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম,সাবেক পৌর মেয়র মাইনুদ্দিন মাইনু, জেলা বিএনপির সদস্য হযরত আলী, এছাড়া রাসেল (নাটঘর), আবু খান (কৃষ্ণনগর), আলমগীর (বড়হিত), আনোয়ার হোসেন (ওয়ারুক), এনামুল (টিয়ারা), ফরিদ ইসলাম (টিয়ারা), হারিজ মিয়া (বড়হিত) ও আমীর হোসেনকে (কুড়িঘর) আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, আসামিরা শতাধিক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলাকায় মহড়া দেন এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। পরে পেট্রোল ও দিয়াশলাই ব্যবহার করে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়সহ তিনটি মুদি দোকান ও একটি ওষুধের দোকানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে আনুমানিক ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ঘটনার প্রায় ৯ মাস পর দায়ের করা এ মামলায় বিএনপির সাবেক ও বহিষ্কৃত নেতাদের আসামি করায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় নবীনগর পৌর সদরে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি নবীনগর থানার প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে এবং পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আলী আজ্জমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন নবীনগর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু খান, সাংগঠনিক সম্পাদক টিপু সুলতান, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আপেল মাহমুদ ও ছাত্রনেতা তৌফিকুল ইসলাম তপুসহ অনেকে।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ৯ মাস পর বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি ও রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতেই এ ধরনের সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁরা বলেন, শান্ত নবীনগরকে অশান্ত করার অপচেষ্টা চলছে। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার না করা হলে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

ট্যাগ :
a>
লেখক সম্পর্কে তথ্য

Pial Riaz

অগ্নিকাণ্ডের ৯ মাস পর বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাদের আসামি করে মামলা, নবীনগরে বিক্ষোভ

অগ্নিকাণ্ডের ৯ মাস পর বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাদের আসামি করে মামলা, নবীনগরে বিক্ষোভ

প্রকাশের সময় ০৫:১৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রায় ৯ মাস পর হঠাৎ করেই আদালতে মামলা। আর সেই মামলায় আসামি করা হয়েছে বিএনপির সাবেক ও বহিষ্কৃত একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতাকে। ঘটনাটি ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মামলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন দলটির একটি অংশের নেতাকর্মীরা। সোমবার সন্ধ্যায় পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশও করেছেন তাঁরা।

জানাযায়,২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর একইছড়া বাজারে বিএনপির একটি নির্বাচনী প্রচারণা কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দীর্ঘ সময় পর সোমবার (২ নভেম্বর) নবীনগরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন নাটঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু হানিফ মোল্লা।

মামলায় জেলা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক ও বহিষ্কৃত নেতাসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও আনুমানিক শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার নামীয় আসামিরা হলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম,সাবেক পৌর মেয়র মাইনুদ্দিন মাইনু, জেলা বিএনপির সদস্য হযরত আলী, এছাড়া রাসেল (নাটঘর), আবু খান (কৃষ্ণনগর), আলমগীর (বড়হিত), আনোয়ার হোসেন (ওয়ারুক), এনামুল (টিয়ারা), ফরিদ ইসলাম (টিয়ারা), হারিজ মিয়া (বড়হিত) ও আমীর হোসেনকে (কুড়িঘর) আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, আসামিরা শতাধিক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলাকায় মহড়া দেন এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। পরে পেট্রোল ও দিয়াশলাই ব্যবহার করে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়সহ তিনটি মুদি দোকান ও একটি ওষুধের দোকানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে আনুমানিক ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ঘটনার প্রায় ৯ মাস পর দায়ের করা এ মামলায় বিএনপির সাবেক ও বহিষ্কৃত নেতাদের আসামি করায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় নবীনগর পৌর সদরে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি নবীনগর থানার প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে এবং পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আলী আজ্জমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন নবীনগর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু খান, সাংগঠনিক সম্পাদক টিপু সুলতান, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আপেল মাহমুদ ও ছাত্রনেতা তৌফিকুল ইসলাম তপুসহ অনেকে।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ৯ মাস পর বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি ও রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতেই এ ধরনের সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁরা বলেন, শান্ত নবীনগরকে অশান্ত করার অপচেষ্টা চলছে। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার না করা হলে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।